সর্বশেষ

চীন-ভারত সৈন্যদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ

  |  ১৮:৫২, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

চীন ও ভারতের সীমান্তে উত্তর সিকিমের নাকুলা-তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দিনপাঁচেক আগে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। সংঘর্ষে দুপক্ষের সেনারাই আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে অবশ্য ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলে বর্ণনা করে সংঘর্ষকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে নাকুলার ঘটনা নিয়ে এখনও কোনও বিবৃতি আসেনি।

ভারতীয় সেনা এদিন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, “নাকুলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসরণ করে স্থানীয় কমান্ডাররাই বিষয়টির মিটমাট করে নিয়েছেন।”

তবে গত সাত মাসের মধ্যে এই প্রথম ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে চীন সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করে নেওয়া হল। এর আগে গত বছরের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২০জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। সেই সংঘর্ষে চীনের দিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

সেই সংঘর্ষের পরে সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টায় দুদেশের মধ্যে সামরিক স্তরে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা অবশ্য এখনও অব্যাহত আছে। বস্তুত গতকালই (২৪ জানুয়ারি, রবিবার) লাদাখের কাছে সীমান্তবর্তী চীনা শহর মালডো-তে ওই আলোচনার নবম রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে সেই বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে বলে কোনও ইঙ্গিত নেই। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সীমান্তের বিতর্কিত এলাকাগুলো থেকে চীনকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নতুন করে কোনও সামরিক স্থাপনা তৈরি করা যাবে না।

কিন্তু চীন তাতে কর্ণপাত করছে বলে মনে হচ্ছে না – বস্তুত লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত সুদীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় তারা নতুন নতুন রাস্তা, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল পজিশন, হেলিপ্যাড স্থাপন করে চলেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও রিপোর্ট করছে।

এদিকে উত্তর সিকিমের নাকুলায় চীনা ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর সামনে আসার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আবারও কটাক্ষ করে টুইট করেছেন।

তিনি এদিন সকালে টুইটারে লেখেন, “ভারতীয় ভূখন্ডের ভেতরে চীন তাদের দখলদারির সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ মিস্টার ছাপান্ন ইঞ্চি গত বেশ কয়েক মাস হল চীন শব্দটা উচ্চারণই করেননি। হয়তো তার এখন চীন কথাটা বলার সময় এসেছে।”

সিকিম এলাকাটি চীনের পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের মাঝের একটি ভূখণ্ড। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড রয়েছে ভারত ও চীনের মধ্যে। উভয় দেশই দাবি করে যে, অন্য দেশের ভেতরে তাদের এলাকা রয়েছে।

নদী, হৃদ ও বরফে আচ্ছাদিত পাহাড় চূড়াময় ৩,৪৪০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার সবটা পুরোপুরি চিহ্নিত নয়। ফলে অনেক সময় সীমান্ত রেখা অদলবদল হতে পারে। ফলে অনেক সময় দুই দেশের সৈনিকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের কারণ হয়ে ওঠে। তবে দুই দেশের মধ্যে একমাত্র যুদ্ধ হয়েছে ১৯৬২ সালে, যে যুদ্ধে ভারতের শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ