সর্বশেষ

ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের কৌশল, ২৬শে মার্চ লংমার্চ

  |  ১৪:৫২, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগামী ২৬শে মার্চ রাজধানী ইসলামাবাদে লংমার্চ করবে পাকিস্তানের বিরোধী ১১ দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)। তার আগে ইমরান খান ও পিডিএম নেতাদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ। কাশ্মীরে ভারতীয় দখলদারিত্ব বন্ধে ইমরান ব্যর্থ হয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। এ জন্য তাকে জবাবদিহিতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তাকে ‘পুতুল প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। জবাবে কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন ইমরান খান। তিনি শুক্রবার কোটলিতে র‌্যালি করেছেন। সেখানে বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তাদেরকে কোনো এনআরও (ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্স) বা দণ্ড মওকুফ করা হবে না।

এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এতে আরো বলা হয়, পিডিএম নেতারা মুজাফফরাবাদের র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের কথা মেনে চলছে বলে অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, এ কারণে হিমালয় উপত্যাকায় ২০১৯ সালের আগস্টে ভারত তার দখলদারিত্ব বৃদ্ধি করতে সাহস পেয়েছে। বিরোধী দলের এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ইমরান। তিনি বলেছেন, যেকোন চুক্তির জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু লুটেরাদের আমি কখনোই এনআরও সুবিধা দেবো না। বিরোধী দল যেখানেই চায়, তাদেরকে লংমার্চ আয়োজনে সহায়তা করবো। কিন্তু তাদেরকে এনআরও সুবিধা দিতে পারবো না।
পিডিএম নেতারা ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট লড়াইয়ের প্রত্যায় ঘোষণা করেছেন। এদিন তারা ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে ও তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) সভানেত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেছেন, কাশ্মীরে ভারতীয় সম্প্রসারণ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানে স্বৈরাচারদের শাসনের সময়ও ভারত এমন সাহস দেখানোর কথা চিন্তা করেনি। মরিয়ম আরো বলেন, ভারতকে উপযুক্ত জবাব দিতে কেন ব্যর্থ হয়েছে আমাদের সরকার। আপনাদের নীরবতাই প্রমাণ করে আপনারা দোষী। কাশ্মীরিদের পক্ষে কথা বলতে কেন ব্যর্থ হয়েছেন আপনি? আপনার পররাষ্ট্রনীতি কি? তিনি আরো বলেন, পুনঃনির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইমরান খান। তার ভাষায়, যখন কাশ্মীরি জনগণ আপনার সমর্থন প্রত্যাশা করছিল, তখন আপনি ব্যস্ত ছিলেন আজাদ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নিয়ে। মরিয়ম নওয়াজ আরো বলেন, এখন ইমরান খানের সরকার বড়দের দিয়ে পিএমএনএলের ওপর চাপ দিচ্ছে সংবিধান সংশোধনে রাজি হতে। এমনটা করা হলে আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ভোট পদ্ধতিই পাল্টে যাবে। তাই আমি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিয়া নওয়াজ শরীফ বলেছি, এই ভুয়া সরকারকে সহযোগিতা করবো না। তাতে আমাদের সিনেটে আসন যদি কমে যাও, যাক।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, কাশ্মীরকে বিক্রি করে দিতে দেয়া হবে না এই পাপেট সরকারকে। একজন ‘সিলেক্টেড’ প্রধানমন্ত্রী ভারতের মোদির উপযুক্ত জবাব দিতে পারেন না। পিটিআইয়ের শাসনের অধীনে কাশ্মীরে অপ্রত্যাশিত অভিযান চালিয়েছে ভারত। কাশ্মীর ইস্যুতে এই সরকার সাবেক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ফরমুলা অনুসরণ করছে। কাশ্মীরে পরবর্তী নির্বাচনের আগে ইমরান খানকে বাক্সপ্যাটরা সহ বিদায় জানাবো আমরা। তিনি আরো বলেন, যে দেশ জুলিফিকার আলী ভুট্টো এবং মুসলিম জাহানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর মতো প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছে, তা এখন পরিচালিত হচ্ছে একজন ‘পাপেট প্রধানমন্ত্রীকে’ দিয়ে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, কাশ্মীরে ভারতের সম্প্রসারণে অসহায় বোধ করেছেন ইমরান খান। বিলাওয়াল ভুট্টো কাশ্মীরে গণভোটের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের কড়া সমালোচনা করেছেন পিডিএম প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমান। তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে একজন রাজনীতিবিদ বলাও বিরক্তিকর। তিনি কাশ্মীরিদের সতর্ক করে বলেন, যদি আপনারা তাকে সমর্থন করেন, তাহলে তিনি আপনাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। পাকিস্তানের অন্য অংশও তিনি এভাবে ধ্বংস করে দিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ