সর্বশেষ

পশ্চিমা দেশগুলো বিক্ষোভে ইন্ধন দিচ্ছে: রাশিয়া

  |  ০৪:৩৬, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

রুশ বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সাই নাভালনির সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে পশ্চিমা দেশগুলো মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি। বিবিসি।

গত ২০ আগস্ট একটি ফ্লাইটে সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে মস্কোয় ফেরার সময়ে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলেক্সাই নাভালনি। ফ্রান্স, জার্মানি ও সুইডেনে চালানো আলাদা আলাদা পরীক্ষায় দেখা গেছে নাভালনিকে নার্ভ এজেন্টের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

জার্মানিতে চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই আটক হন পুতিনবিরোধী এ নেতা। প্যারোলে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ার একটি মামলায় তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায় মস্কোর একটি আদালত। এ গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিযাজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে সরকার।

এরইমধ্যে রুশ সরকারের দমন পীড়ন আর গণ গ্রেফতারের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ। গ্রেফতারের জন্য দায়ী রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিতুনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দাবি জানিয়েছেন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রেজ ডুডা ইইউ’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জনগণকে বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে মস্কোস্থ মার্কিন দূতাবাস।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের এমন সতর্কবার্তার সমালোচনা করেন পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ। তিনি বলেন, এ ধরনের বার্তা ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল’। মার্কিন দূতাবাস বলছে, এ ধরনের সতর্কবার্তা ‘সাধারণ ও নিয়মিত চর্চা’র অংশ। এর আগে নতুন বাইডেন প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়কে ‘কঠোর কৌশল’ উল্লেখ করে সমালোচনা করেছিল। আটককৃতদের মুক্তি দিতে রুশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যস্থ রুশ দূতাবাসও অভিযোগ করেছে, নিজেদের দূতাবাস ব্যবহার করে বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে সমালোচনা করছে তা ‘পশ্চিমা চিন্তাধারা, পাশ্চাত্য ছদ্ম-গণতন্ত্র এবং ছদ্ম-উদারপন্থার গভীর সংকটের’ ফলাফল।

রাশিয়ান সিভিল রাইট পোর্টালের দাবি, শনিবার দেশের ১০০টি রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেফতার হয়েছে তিন হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে শুধমাত্র মস্কোতেই গ্রেফতার করা হয়েছে এক হাজার ৩৬০ জনকে।

অন্য দিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫২৩ জনকে। সব মিলিয়ে গোটা দেশে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে ওই মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি। ক্রেমলিন অবশ্য এই সংখ্যা মানতে রাজি হয়নি। সরকারের মুখ্য মুখপাত্র ডিমিট্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ‘সামান্য কিছু মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।’ মোট গ্রেফতারের সংখ্যাও জানানো হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ