সিলেট জিতু মিয়ার পয়েন্টে শাহজালাল (রহ:) চত্বর নির্মাণের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবারে স্মারকলিপি প্রদান

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশিত আগস্ট ৬, ২০২৫
সিলেট জিতু মিয়ার পয়েন্টে শাহজালাল (রহ:) চত্বর নির্মাণের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবারে স্মারকলিপি প্রদান

সিলেটের কাজিরবাজার সেতুর উভয় পার্শ্বের রাস্তা প্রশস্তকরণ ও প্রস্তাবিত শাহজালাল (রহ:) চত্বর বাস্তবায়নের দাবীতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল ৪ আগস্ট সোমবার দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নুরের জামান চৌধুরীর কাছে শাহজালাল (রহ:) চত্বর নামকরণ ও কাজির বাজার সেতুর উভয় পার্শের রাস্তা প্রশস্তকরণ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল (রহ:) চত্বর নামকরণ ও কাজির বাজার সেতুর উভয় পার্শের রাস্তা প্রশস্তকরণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য- মোঃ সিকন্দর আলী, নুরুল আলম, মোঃ ফখর উদ্দিন, শাব্বরি আহমদ বাচ্চু, মোঃ অলিউর রহমান সাজন, মোঃ আব্দুল কাদির, মোঃ সাব্বির আহমদ, এডভোকেট ছাইদুর রহমান, এডভোকেট মইনুল ইসলাম, জুবের আহমদ, মোঃ হাবিবুর আহমদ, শামীম আহমদ, মোঃ শফিকুল ইসলাম মোঃ আব্দুস সামাদ মান্না,তৌকির আহমদ শাওন, মোস্তাক আহমদ,প্রমূখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিলেট নগরীর বৃহত্তর শেখঘাট এলাকায় ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার পয়েন্টে অবস্থিত কাজির বাজার সেতুর প্রবেশ পথ সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থান। যা হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহ:) এর প্রথম পদাপিত স্থান হিসেবে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তবে, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই সেতু এবং এর তৎসংলগ্ন সরুরাস্তা বর্তমানে একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ডের বৃহত্তর শেখঘাট, ভাঙ্গাটিকর, কলাপাড়া, ঘাসিটুলা, মোল্লাপাড়া, মজুমদার পাড়া, ডহর, বেতের বাজার, নবাব রোড, মোগলটুলা, খুলিয়াপাড়া, পশ্চিম কাজির বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নাগরিকরা চলাচল করেন। উভয় পার্শ্বে সরু রাস্তার কারণে সারাক্ষণই অসহনিয় যানজট লেগেই থাকে। যা থেকে এই এলাকায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং বহু তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। প্রায় এক মাস পূর্বে তরুণ চিকিৎসক রহিমা খানম জেসীর মর্মান্তিক মৃত্যু এই স্থানের নিরাপত্তাহীনতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
জিতু মিয়ার পয়েন্টে ও পার্শ্ববর্তী স্থানে অবস্থিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঈনুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা, শেখ ছানা উল্লাহ জামে মসজিদ, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটের বৃহত্তম কাজির বাজার মৎস্য আড়ৎ, ধান-চালের মিল, চালের পাইকারি ট্রেডিং হাউস, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, বিএডিসি অফিস, ফরেষ্ট অফিস, সমাজকল্যাণ অফিস, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, কুষ্ঠ হাসপাতাল ইত্যাদি স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এমনকি দক্ষিণ সুরমার নাগরিকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকদের মূল প্রবেশ পথ এই পয়েন্ট। এদিকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকের কলেজ হাসপাতালের অসংখ্য এ্যাম্বুলেন্স সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন এ পয়েন্ট সংলগ্ন ভিআইপি রোড ও শেখঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। জিতু মিয়ার পয়েন্টে কার্যতঃ কোন ট্রাফিক সিগন্যাল/ বক্স না থাকায় এখানে ভ্রাম্যমান ফলের দোকান, সিএনজি ষ্ট্যান্ড, অটোরিক্সা ষ্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে, ফলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির শেষ নাই। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্মারকলিপিতে নিম্নলিখিত দাবি পেশ করা হয়। দাবীগুলো হচ্ছে যথাক্রমে-
১। কাজির বাজার সেতুর উভয় পার্শ্বের রাস্তা প্রশস্তকরণ। সেতু পাশ দিয়ে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম পাশের রাস্তা বিশেষ করে সেতুর পশ্চিমাংশের বিদ্যমান রাস্তাকে সর্বনিম্ন ২৫ ফুট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশস্ত করা, যাতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিরাপদ ও সুগম হয়। ২। প্রস্তাবিত শাহজালাল (রহ:) চতুর বাস্তবায়ন : জিতু মিয়ার পয়েন্টকে হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর নামে একটি সুসজ্জিত চত্বর হিসেবে গড়ে তোলা, যা সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষা করবে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। ৩। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : সেতুমুখে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রশাসন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে বৈঠক এবং যুব সংগঠনগুলোর সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গত ১৪ জুলাই সিসিকের ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ড সহ আশে-পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী সহ সকল দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। যা বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শেখঘাটসহ আশপাশের এলাকার আপামর জনগণ, এই ‘স্মারকলিপি প্রদান করেন।
নেতৃবৃন্দ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দাবীগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানান।