সর্বশেষ

ড: এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ও শাহরিয়ার কবিরের টকশো

  |  ১৮:১৪, ডিসেম্বর ২১, ২০২০

ড: এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী
ও শাহরিয়ার কবিরের টকশো

।। অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ ।।

গত ২০ ডিসেম্বর রাতে ডঃ মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরের টকশোটি সরাসরি দেখতে পারিনি । একটু দেরীতে বাসায় ফিরে দেখেছি ।
ধন্যবাদ ও অভিনন্দন ড: আব্বাসী সাহেব । আল্লাহ আপনার ইলম ও হিকমাহর উপর বরকত দান করুন ।

দু জনের বক্তব্যে শাহরিয়ার কবীরকে দ্বিধাগ্রস্থ ও অপ্রস্তুত মনে হয়েছে । শাহরিয়ার বরাবরের মতোই কিছু বহু চর্চিত শব্দের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্যে সস্তা সেনসেসন তৈরীর জন্য বঙ্গবন্ধু , ৭১ মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের সংবিধান এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রের ধারনা টেনে এনে তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রন আনবার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছেন। মি: শাহরিয়ার আলেম উলামাদের নাম উচ্চারণ করতেও সব্যতা দেখায়নি।মামুনুল হকের বাবা আজিজুল হক, আহমদ শফি , মোল্লা এসব সম্বোধন তাচ্ছিল্য পূর্ণ ভাবে করেছেন । এটা তার চিরাচরিত চৈরিত্র বৈশিষ্ট এবং ড: আব্বাসীকে উত্তেজিত করার অপকৌশল ছিল মাত্র ।
আব্বাসী সাহেব তার এই অপকৌশলকে গোড়াতেই বুঝতে পেরেছেন এবং আগাগোড়াই ছিলেন শান্ত , প্রানবন্ত এবং বক্তব্যের মূল কেন্দ্রীয় পয়েন্টের উপর স্থির ও চলমান।

শাহরিয়ার কবির প্রসংগকে কেন্দ্রীয় আলোচনা থেকে সরিয়ে তুচ্ছ বিতর্ক তৈরীর চেষ্ঠা করেছেন কিন্তু আব্বাসী সাহেব বরাবরই তথ্যভিত্তিক এবং একাডেমিক আলোচনা করে অতি সুনিপূণভাবে ধর্ম নিরপেক্ষতার অসারতা এবং এটি যে ক্লাস অফ সিভিলাইজেসনের যুদ্ধে ইসলামের রাজনৈতিক উত্থানকে ঠেকাবার পুজিবাদী হাতিয়ার সেটি সাব্যস্ত করে স্পষ্ঠ বলে দিয়েছেন এটি একটি হাইপোথেটিক্যাল ধারনা , যার বাস্তবায়ন পৃথিবীতে একটিও নেই । তিনি বিপরীতে খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার ব্যাপকতা ও অবশ্যম্ভাবিতা বেশ যুৎসইভাবে তুলে ধরেছেন ।

উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি মি: শাহরিয়ার কবীরকে তার বঙ্গবন্ধুর দেয়া ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলনীতিকে, যা প্রতিষ্ঠিত কোন সংজ্ঞায় মিলেনা বা পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রেই নেই এর নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাবটিও দারুন যৌক্তিক ভাবে উত্থাপন করেছেন । তিনি শাহরিয়ার কবীরকে বেশ ক’টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বিম্বিষায় পাঠিয়ে দিয়ে কাদিয়ানী এবং খেলাফত ইস্যুতে তাকে বলেছেন ‘আপনি জানেন না’ । কবীর এই চ্যালেন্জ নিতে পারেন নি । মাওলানা মওদুদী,জামাত সাঈদী ইত্যাদি ইস্যুতেও তিনি কৌশলে শাহরিয়ার কবিরকে উঠে দাঁড়াতে দেন নি ।

পরিশেষে মি: শাহরিয়ার ইসলাম ও খেলাফত নিয়ে কাজ করা এবং এর প্রতিষ্ঠার দাবী উত্থাপনকে নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন ।
পুরো সময়ে শাহরিয়ারের অসহায়ত্ব দৃশ্যমান ছিল এবং শেষদিকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চলে যেতেও ইচ্ছা ব্যাক্ত করেছেন ।

আব্বাসী সাহেব শুরু থেকেই তাঁর বক্তব্যকে মূল পয়েন্টে কেন্দ্রীভূত রেখেছেন এবং ইসলাম এবং খেলাফত দুনিয়াতে আছে এবং অচিরেই আসবে বলে বক্তব্য সমাপ্ত করেছেন ।
আজকের এই টকশোটি স্মরনীয় হয়ে থাকবে ।

লেখক ঃ অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ
আন্তর্জাতিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব খেলাফত মজলিস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ