যে কারণে একই পোশাক তৃতীয়বার পরেছেন ব্রিটিশ রানি

প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, |                          

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে সম্প্রতি বিরল এক কাজ করতে দেখা গেছে। এক মাসের মধ্যে একই পোশাকে দ্বিতীয়বার দেখা গেছে তাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রয়াত স্বামী প্রিন্স ফিলিপের প্রতি শোক জানানোর সূক্ষ্ম উপায় হিসেবে রাজকীয় এই প্রথা অনুসরণ করেছেন রানি।

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্যরা সাধারণত একই পোশাক দুইবারের বেশি ব্যবহার করেন না। তবে ব্রিটিশ রানিকে একই বেগুনি কোটে তৃতীয়বার দেখা গেছে।

গত ১৩ জুন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের এই বছরের আনুষ্ঠানিক জন্মদিন উদযাপন করা হয়। ট্রুপিং দ্য কালার নামে বার্ষিক এই আয়োজনে উইন্ডসর প্রাসাদে হলুদ ফুল আঁকা বেগুনি কোট ও হ্যাট পরিহিত রানিকে দেখা যায়। তবে নিবিড় চোখ রাখা পর্যবেক্ষকেরা ঠিকই খেয়াল করেন ওই একই পোশাক রানি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরেছিলেন। তার আগেও একবার একই পোশাকে রানিকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।

মনে হতে পারে রানি কিংবা তার কর্মীদের ভুলেই এমনটা ঘটেছে। কিন্তু আসল ঘটনা তা নয়। গত ৯ এপ্রিল রানির স্বামী প্রিন্স ফিলিপ ৯৯ বছর বয়সে মারা যাওয়ায় শতাব্দি প্রাচীন একটি রাজকীয় প্রথা অনুসরণ করতে গিয়েই এমনটা করা হয়েছে।

পুরনো প্রথা অনুসারে রাজ পরিবারের বিধবারা স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম দুই বছর কেবল কালো শোকের পোশাক পরতে পারেন। সেই মেয়াদের পর তারা ‘দ্বিতীয় শোকের’ পোশাক বা ধূসর কিংবা বেগুনি রঙের পোশাক পরবেন বলে আশা করা হয়।

হিস্টরিক রয়্যাল প্যালেসের কিউরেটর ম্যাথিউ স্টোরি বলেন, ‘বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় রাজ সংস্কৃতিতে শোকের পোশাকের চল রয়েছে, কিন্তু ১৯ শতকে রানি ভিক্টোরিয়ার প্রভাবে এই সংস্কৃতি চূড়ায় পৌঁছায়। তিনি সমাজের বাকি অংশের অনুসরণের জন্য এই সংস্কৃতির একটি মানদণ্ড নির্ধারণে সক্ষম হন।’ তিনি বলেন, ‘বিধবাদের কালো পরার দরকার পড়তো তারপর সাদা কিংবা ফিকে লাল, রঙিন পোশাকে ফেরার আগে অন্তত তিন বছর এসব পোশাক পরতে হতো তাদের।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোকের পোশাক পরার প্রথায় আধুনিক মোড় দিয়েছেন রানি। সরকারি রাজকীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শোকের পোশাক বা বেগুনি রং বেছে নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় জি-৭ সম্মেলনে তিনি কেন বেগুনি পোশাক পরেছিলেন।

এসব পোশাকের মাধ্যমে রাজ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে যে রানি এখনও তার স্বামী ডিউক অব এডিনবার্গের মৃত্যুতে শোক পালন করছেন।