তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে।তিনি পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ) আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছে সেটিকে বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট। জনগণ নির্ভীক চিত্তে লড়াই করেছে বলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এ সাহসী মনোভাবকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে নিজের নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সিস্টেমে পরিবর্তন না হলে দেশ পরিবর্তন হবে না। দেশ গড়ার জন্য সিস্টেম পরিবর্তনের হাতিয়ারই হচ্ছে গণভোট। গণভোট সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এনে তার স্থায়ী রূপ দেয়া। কাজেই গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জেনে বুঝে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারে ভালো লোকের অভাব নেই, খারাপ লোকেরও অভাব নেই। সিস্টেম পরিবর্তন না হলে ভালো লোকেরা বেশি কাজ করতে পারবে না।আবার সিস্টেম পরিবর্তন হলে খারাপ লোকেরা ইচ্ছে করে খারাপ কাজ করতে পারবে না।আমাদের সামনে এবার সেই সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, গণভোটের আইনী ভিত্তি নিয়ে কথা বলে লাভ নেই।গণভোট হয়ে গেলে কোন শক্তি একে পরাভূত করতে পারবে না।
উপদেষ্টা বলেন, জনগণ এবার ঐক্য গড়ে তুলেছে। তবে ভিন্ন আঙ্গিকে। দেশ বদল করার একতা।তিনি বলেন,অতীতেও দেশের জনগণ এক হয়েছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে।কিন্তু ঐ গণঅভ্যুত্থান পরে বিভিন্ন মত,পথ,রাজনৈতিক দল ঢুকে গিয়েছিল।তাই কাঙ্খিত অর্জন হয়ে উঠেনি। এবার জনগণেের ঐক্য হবে চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের কাঙ্খিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান,বিগত একনেক এর বৈঠকে সুরমা কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণে ১২শ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।তিনি সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমকে উন্নয়নমুলক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য ধন্যবাদ জানান।দেশের ৬৪ জেলায় এরকম ডিসি থাকার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও অভাবনীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক নারী ভোটার, তরুণ ভোটার, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। জনগণকে দেশের হিস্যা বুঝে নিতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করাই প্রধান বিষয়। এবারের গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি, জনগণের মতামতের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে দেশ ন্যায়ের পথে পরিচালিত হবে কিনা সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।