স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ও সফল নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল করেছে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
বৃহষ্পতিবার বাদ যোহর রাষ্ট্রঘোষিত ৩ দিনের শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর মধুবন সুপার মার্কেট মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিল পরবর্তী ক্লাবের ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে বেগম জিয়ার কর্মময় জীবনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ হেলাল, সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু, সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুর রহমান তালুকদার,কার্যকরী পরিষদ সদস্য শহীদুর রহমান জুয়েল ও মো: আব্দুল হাছিব, সাধারণ সদস্য এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী,আশরাফুল ইসলাম ইমরান,মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, উৎফল বড়ুয়া, আমির উদ্দিন ও রুবেল মিয়া প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের ইতিহাসে যখনই গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে, তখনই তিনি দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের অধিকার রক্ষায় সামনে দাঁড়িয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল—জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। বেগম জিয়া সেই চেতনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র সুসংহত হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান গড়ে ওঠে। তিনি কখনোই ক্ষমতার জন্য গণতন্ত্রের সঙ্গে আপস করেননি। বারবার নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েও তিনি জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন। এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা ও সাহসের প্রতীক।
বক্তারা আরও বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে বেগম জিয়ার নেতৃত্ব ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। তার শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্যোগ ছিল সুস্পষ্ট। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন। গণতন্ত্র যখন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কারাবরণ, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে একচুলও সরে যাননি—এটাই তাকে ইতিহাসে একজন সাহসী ও নির্ভীক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকের প্রজন্মের জন্য বেগম জিয়া এক অনন্য দৃষ্টান্ত—যিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যিকার নেতৃত্ব মানে ক্ষমতায় থাকা নয়; বরং জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় নিরলস সংগ্রাম। তার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেগম জিয়ার আদর্শ ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখানো পথে হাঁটলেই একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দোয়া মাহফিলে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।