উশু শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি জীবনচর্চা” – মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৫
উশু শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি জীবনচর্চা” – মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান, এডব্লিউসি, এএফডাব্লিউসি, পিএসসি, জি বলেছেন,

উশু শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি জীবনচর্চা।উশু চর্চা শুধু শারিরীক ও মানসিক বিকাশ বা আত্নরক্ষার কৌশল রপ্তেই সহায়তা করে না, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃতির যথাযথ সমাদর নিশ্চিতকল্পে জনসচেতনতা বৃদ্ধিও উশুর অন্যতম মূলমন্ত্র। এরই আলোকে এ বছরের উশু-কুংফু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে *’Celebrate Taiji Together’ বা ‘সম্মিলিতভাবে তাই-চি উদযাপন’।*
শনিবার (০৯ আগস্ট) সিলেট নগরীর উপশহরে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন এর আয়োজনে উৎসবমুখরভাবে বিশ্ব উশু দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয় যা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয়ে সুবহানিঘাট কাঁচা বাজার হয়ে উপশহর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শেষ হয়। পরবর্তীতে একটি প্রদর্শনী উশু ম্যাচ আয়োজন করা হয় এবং এবছরের জাতীয় উশু প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগে ভালো ফলাফল অর্জনকারী উশু খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

মূলত এই দিনটি চীনা মার্শাল আর্ট ‘উশু’-এর চর্চা ও বিশ্বব্যাপী প্রসারের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এই দিনটি পালনের মাধ্যমে সকলকে উশু শিখতে, উপভোগ করতে এবং তাদের জীবনের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: রেজাউল করিম পিপিএম সেবা, সেনাবাহিনীর ৩৪ বীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ, এসএমপির ডিসি(নর্থ) সজীব খান,সিলেটের পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট এর প্রতিনিধি সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ড. এনামুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ,মো. শাহজাহান আলী, মোকাম্মেল হক,সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, আহমদ ওমায়ের,সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, ইমজা সেক্রেটারি সাকিব আহমদ মিঠু, জেলা ক্রীড়া অফিসার নুর হোসেন, ফেডারেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেট বিভাগের সকল উশু খেলোয়াড় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।

প্রধান অতিথি বলেন, ০৯ আগস্ট ২০২৫ আন্তর্জাতিক উশু ফেডারেশনের নির্দেশনায় বিশ্বব্যাপী *’৮ম উশু-কুংফু দিবস’* পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সমগ্র উশু, কুংফু ও অন্যান্য ঐতিহ্যগত চাইনিজ মার্শাল আর্ট পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সমগ্র দেশব্যাপী ক্লাব/সংগঠনসমূহের উদ্যোগে যথাযথ গুরুত্বের সাথে ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে এই দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইউনেস্কো *’তাই-চি’ কে’ বিশ্ব মানবতার অননুভবনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (UNESCO List of Intangible Cultural Heritage of Humanity) এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে*। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরের উশু-কুংফু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারনের মূল উদ্দেশ্য আসন্ন ইউনেস্কো মহাসম্মেলনে *’তাইচি-চিয়ান দিবস’কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা।* একই সাথে আন্তর্জাতিক উশু ফেডারেশন কর্তৃক ‘উশু’ কে ‘অলিম্পিক গেমস’- এ অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সমন্বিত প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন,আজকে আমরা এমন একটি দিন উদযাপন করছি, যেটি শুধুমাত্র একটি খেলার দিন নয়, বরং একটি সংস্কৃতি, একটি দর্শন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও মনোবলের উৎসব।এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই আমাদের সকল অতিথির প্রতি, বিশেষ করে যাঁরা আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। আপনাদের উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন,উশু – এটি একটি প্রাচীন চীনা মার্শাল আর্ট। কিন্তু আজ এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পূর্ণাঙ্গ খেলাধুলা। এর মধ্যে রয়েছে আত্মরক্ষা, সৌন্দর্য, দেহের নমনীয়তা, একাগ্রতা এবং মানসিক শক্তির সমন্বয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যখন উশু অনুশীলন করে, তখন তারা শুধু শরীরচর্চা করে না—তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলে। আর একজন জাতি গঠনের জন্য এই দুটি গুণ সবচেয়ে জরুরি—আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করছে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণে সহায়তা করছে। আমাদের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই সাউথ এশিয়ান গেমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।কিন্তু আমরা এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আমাদের স্বপ্ন আরও বড়। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উশুর প্রশিক্ষণ পৌঁছে যাক। আমরা চাই, একজন কিশোর-কিশোরী শহরে হোক বা গ্রামে—উশুর মাধ্যমে গড়ে উঠুক সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং সুস্থ একজন নাগরিক হিসেবে।

তিনি বলেন,আমরা খুব শীঘ্রই জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে উশু ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি। আমরা চাই, উশু শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গর্বের প্রতীক হোক।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য। তোমাদের ঘাম, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। মনে রাখবে, সফলতা রাতারাতি আসে না। কিন্তু যদি তোমরা পরিশ্রম করো, নিয়ম মেনে চর্চা করো, তাহলে একদিন বিশ্বমঞ্চেও তুমি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে।এখন আমি কিছু মানুষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই—আমাদের প্রশিক্ষকবৃন্দ, যারা সীমিত সুযোগেও দেশের সেরা উশু প্রতিভা তৈরি করছেন; আমাদের ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, যাঁরা নিরলসভাবে এই আয়োজন সফল করেছেন; এবং সকল মিডিয়াকর্মী, যাঁরা এই আয়োজনের বার্তা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এই চর্চাকে আরও ছড়িয়ে দেই।আমরা চাই, একদিন বিশ্ব উশু দিবসে বাংলাদেশও হোক আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দু।