SylhetNewsWorld | একই বংশের অর্ধশত নারী-পুরুষ যে বিরল রোগে আক্রান্ত - SylhetNewsWorld
সর্বশেষ

একই বংশের অর্ধশত নারী-পুরুষ যে বিরল রোগে আক্রান্ত

  |  ১৬:১০, জুলাই ০৫, ২০২১

একই বংশের প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ‘পেস ক্যাভাস’ নামে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার শলুয়া গ্রামের মৃত বদর উদ্দীনের পরিবারের প্রায় সবাই এ রোগে আক্রান্ত।

পেস ক্যাভাস রোগ অর্থ ‘ফাঁকা পা’ বা উঁচু খিলানযুক্ত পা বলা হয়। অর্থাৎ পায়ের পাতার পশ্চাৎ অংশের পেশী সংকুচিত হয়ে উঁচু হয়ে যায় এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পায়ের নলা শুকিয়ে আসে।

মনিরামপুর পৌর শহরে অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলামের রোকেয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা এই রোগে আক্রান্ত কলেজছাত্র গোলাম রসুলের কাছ থেকে এসব তথ্য উঠে আসে। তিনি তার ভগিনীপতি পৌর এলাকার রাসেল হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে এ ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রাসেল হোসেন জানান, তার মামাশ্বশুরের বংশের প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত।

গোলাম রসুলের বাবা শরিফুল ইসলাম জানান, তার দাদা মৃত বদর উদ্দীনরা ছিলেন ৫ ভাই। অন্যদের না হলেও বদর উদ্দীন এ রোগে আক্রান্ত হন। মৃত বদর উদ্দীনের ৩ ছেলে তাহাজ্জুত হোসেন, মোন্তাজ হোসেন,আব্দুস সাত্তার এবং এক বোন হামেদা বেগমের মধ্যে মোন্তাজের ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে এ রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না দিলেও তাহাজ্জুত হোসেনের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে রবিউল ইসলাম আক্রান্ত হন।

তিনি জানান, রবিউল ইসলামের ছেলে মিরাজুল ইসলামও এ রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আব্দুস সাত্তারের বংশধর। আব্দুস সাত্তারের ৩ ছেলে শরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম এবং ২ মেয়ে শিউলী ও হালিমা এ রোগে আক্রান্ত। শরিফুল ইসলামের কলেজ পড়ুয়া ছেলে গোলাম রসুল ও ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া আরাফাত হোসেন, জাহাঙ্গীরের দুই ছেলে ফয়সাল ও মামুন হোসেন ও জাহিদুল ইসলামের ছেলে মিকাইলও এ রোগে আক্রান্ত।

শরিফুলের দুই বোনের মধ্যে হালিমাকে বিয়ে দেওয়ার ৩ বছর পর এ রোগে আক্রান্ত হন। হালিমার মেয়ে বৃষ্টি আক্রান্ত না হলেও ছেলে আল-আমিন উজ্জ্বল আক্রান্ত। শরিফুল ইসলামের বোন হালিমার এছাড়া শরিফুল ইসলামের ফুফু মৃত হামেদা বেগমের দুই মেয়ে তারাবান ও আছিয়া আক্রান্ত।

আছিয়ার মেয়ে চানভানুর মেয়ে ফারজানা আক্রান্ত হলে সম্প্রতি রোকেয়া ক্লিনিক হতে ডা. নজরুল ইসলাম পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। এখন তিনি ভাল বলে জানান শরিফুল। এর দেখাদেখি শরিফুল ইসলাম তার ছেলে গোলাম রসুলের এ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন ডা. নজরুল ইসলাম। চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল বলে তাদের পক্ষে চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে উঠছে। শরিফুল ইসলাম শেষ সম্বল এক খণ্ড জমি বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

কিভাবে আক্রান্ত হন এম প্রশ্নের জবাবে গোলাম রসুল বলেন, তিনি ছোট বেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলেছেন। হঠাৎ একদিন দুই পায়ে চরম ব্যথা অনুভব করেন। এরপর হাটতে গেলে পেশী সংকুচিত হয়ে যেতে থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দুই পায়ের পাতার পশ্চাৎ অংশ সংকুচিত হয়ে উঁচু হয়ে হতে থাকে। সেই সঙ্গে পায়ের নলা শুকিয়ে চিকন হতে থাকে। বংশের যারাই এ রোগে আক্রান্ত তাদের শুরুটা এভাবেই বলে জানালেন তিনি।

‘পেস ক্যাভাস’ পেস ক্যাভোভারাস, পেস ক্যালকানোওভাল এবং খাঁটি পেস ক্যাভাস এই তিন ধরনের হয়। প্রধানতঃ তিনটি গ্রুপে অস্ত্রোপচার হয়। এগুলো হলো নরম টিস্যু পদ্ধতি, অস্টিওমি এবং হাড়-স্থিতিশীল পদ্ধতি।

ডা. নজরুর ইসলামের ছেলে ডা. মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত জানান, তার বাবার তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি এ রোগে আক্রান্ত ফারজানা নামের এক মেয়ের অস্ত্রোপচার হয়। তিনিও বাবাকে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে গোলাম রসুল নামে আরও একজনের এক পায়ে অস্ত্রোপচার হয়।

তিনি আরও জানান, পায়ের কার্ভেচার বেশি হওয়ায় এ রোগ হয়। এ জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টার্সাল হাড় কেটে আ্যাকিলিস টেন্ডন লম্বা করা হয়। এতে এ রোগে আক্রান্ত রোগী ধীরে ধীরে ভাল হয়ে ওঠে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ