SylhetNewsWorld | ফ্রি ফায়ার-পাবজি: যা বলছেন ১২ শীর্ষ খেলোয়াড় - SylhetNewsWorld
সর্বশেষ
 স্পেনে অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি’র অভিষেক বাজেট অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফের ঘোষণায় বিব্রত সাংবাদিকরা স্পেন থেকে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধারকৃত ছয়জন বাংলাদেশীকে দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স-এ ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন স্বাধীনতার সূবর্ন জয়ন্তিতে স্পেনে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন বসিলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান, আটক ১ জার্মানি থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরাতে চায় সরকার অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন রুশ মন্ত্রী নর্থ মেসিডোনিয়ার হাসপাতালে আগুন, ১০ কোভিড রোগীর মৃত্যু সাবেক কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তালেবান প্রধানমন্ত্রী

ফ্রি ফায়ার-পাবজি: যা বলছেন ১২ শীর্ষ খেলোয়াড়

  |  ১৫:১৬, আগস্ট ২২, ২০২১

স্মার্টফোনের যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, খেলাধুলা, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঘরে বসে অনলাইনে সম্পন্ন করছেন মানুষ। তেমনি রাজধানীসহ দেশজুড়ে খেলাধুলার মাঠ দখল ও সংকট থাকায় তরুণ প্রজন্ম অনলাইনে পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো বিভিন্ন ধরনের গেম খেলছেন। ছেলেমেয়েরা অলস সময়ে মাঠে খেলার সুযোগ না পেয়ে অনলাইনে সময় কাটাচ্ছেন। এতে গেম খেলার পাশপাশি অনেক তরুণ অর্থ উপার্জনও করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে খেলার মাঠ সংকট থাকায় তরুণরা বাসায় বসে অনলাইনে গেম খেলছেন। এতে ঘরের বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে মাদকাসক্ত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাচ্ছেন। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তরুণ প্রজন্ম আসক্তির দিকে ঝুঁকে না পড়েন সেজন্য অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।

ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো বিভিন্ন অনলাইন গেমে বিনোদনের সঙ্গে পেশাদারিত্ব জড়িত। বিশ্ব আজ খেলার মাঠের পাশাপাশি অনলাইন গেম প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ই-স্পোর্টস গেমিং সেক্টরে পারফর্ম করে জায়গা করে নিচ্ছে বিশ্বজুড়ে। আর জিতে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকার প্রাইজ মানি। ভিডিও মেকিং, স্ট্রিমিং, সরাসরি ধারাভাষ্য করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন মানুষ।

জানা গেছে, গত ২০১৮ সালে পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার গেম বাংলাদেশে শুরু হয়। এর আগে ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি বলতে তেমন কিছু ছিল না বললেই চলে। এখন বাংলাদেশ, সাউথ এশিয়ার সব দেশেই পাবজি ও ফ্রি ফায়ার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেছে। যার সঙ্গে সরাসরি প্রায় ৫০-৬০ হাজার মানুষ জড়িত আছেন। আর বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার থেকে আয় করছেন। বাংলাদেশে প্রায় ৫-৬ হাজার স্ট্রীমার আছে যারা প্রতিদিন পাবজি ও ফ্রি ফায়ার ইউটিউব ও ফেসবুকে স্ট্রিম করা হয়। যা থেকে মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করা হচ্ছে।

দেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজির বিষয়ে শীর্ষ খোলায়াড়েরর মতামত নিচে তুলে ধরা হল:

অনন্য মাসুদ: আসলে ফ্রি ফায়ার বা পাবজি গেইমেরই দুইটা দিক থাকে, একটা বিনোদনের মাধ্যম অন্যটা পেশাদারী। ইলেক্ট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টস নিয়ে আমরা খুব বেশি অবগত না থাকলেও সারা বিশ্বে কদর আছে। এই সেক্টর আমাদের দেশসহ বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ তাদের পেশা হিসেবে নিয়েছে। অনেকে গেইমে ভালো পারফর্ম করে জায়গা করে নিচ্ছে বিশ্বকাপে, আর জিতে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার প্রাইজ মানি। আবার ভিডিও মেকিং, স্ট্রিমিং, সরাসরি ধারাভাষ্য করে আয় করছে লাখ লাখ টাকা।

আমার মতে ফ্রি ফায়ার, পাবজির খারাপ দিক যেমন আছে, তার থেকে ভালো দিক বা সম্ভাবনাময় দিক আরো বহুগুণ রয়েছে। মূল সমস্যা হলো আমরা অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিচ্ছি। যেখানে ফ্রি ফায়ার গেইম ডাউনলোড করার সময়ই বলে দেয়া হয় এটি ১৭ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য। সেখানে কীভাবে আমাদের দেশের ১৭ বছরের নিচের বাচ্চারা এই গেইম খেলতেসে। আমরা যদি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে অচিরেই বাংলাদেশে বিশ্বের দরবারে গেইমিং সেক্টরে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাড়াবে।

রায়হান তানবীন তন্ময়: পাবজি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আগে আমরা অনলাইন ভিত্তিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সম্ভাবনা দেখতে পেলেও সেটা বাস্তবতায় রূপ দেয়া নিয়ে আশাবাদি ছিলাম। এখন এই প্লাটফর্মে দিন দিন ই আরো বেশি সম্ভাবনা বাড়ছে। যেখানে আগে কোনো স্পন্সর পাওয়া যেত না সেখানে এখন বাংলালিংক বা পিএসারএম এর মত প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে স্পন্সরশীপ দিচ্ছে। সাথে বিদেশি স্পন্সর রাও আগ্রহ প্রকাশ করছে। সাথে এই প্লাটফর্মে ইনভেস্টর এর সংখ্যা যেমন বাড়ছে সে সাথে বাড়ছে প্লেয়ারদের চাহিদাও । তাই নেতিবাচক দিকগুলোকে যদি আয়ত্বের মধ্যে রেখে ইতিবাচক দিক গুলো নিয়ে কাজ করা যায় তবে এই প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে অন্যতম সেরা অনলাইন প্লাটফর্ম।

ওমর হাসান সাজিদ: আমি একজন প্রফেশনাল গেমার, ডিজিটাল বাংলাদেশেকে আরো ১ ধাপ এগিয়ে নিতে উন্নত দেশের পাশাপাশি অবশ্যই গেমিং ইন্ডাস্ট্রির পাশে আমাদের সবাইকে দাঁড়াতে হবে। গেমিং জগতে পাবজি বিশাল বড় মার্কেট প্লেস দখল করে আছে। তাই গেমটি বাঁচিয়ে রাখুন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, দেশের রেমিট্যান্সের স্বার্থে। আমরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছি তা আমাদেরকে প্রকাশ করার সুযোগ দিন।

হাসানুজ্জামান অভি: ই-স্পোর্টস খাতে বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা করে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের উন্নত অনুন্নত দেশগুলোতেও ই-স্পোর্টস সিনারিও আমাদের দেশের চাইতেও এগিয়ে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বেকারত্বের হার অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। আমি এবং আমার টিম সম্প্রতি দুবাইয়ে পাবজির সবচেয়ে বড় আসরে অংশগ্রহণ করেছি যেখানে আমরা বিশাল অংকের টাকা জিতেছি। এছাড়াও আমরা পাবজি মোবাইল ওয়ার্ল্ড ইনভাইটেশনাল খেলে ৩৮ লাখ টাকা ইউনিসেফে অনুদান করেছি। দেশের বেকারত্বের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইস্পোর্টস অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, দেশের সম্ভাবনাময় ই-স্পোর্টস প্লাটফর্ম বাঁচিয়ে রাখতে, দেশের ইস্পোর্টস প্লেয়ারদের স্ট্রাগলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে অনুরোধ থাকবে গেমটিকে বাঁচিয়ে রাখুন।

অনিক ভৌমিক: ২০১৮ সাল থেকে পাবজি এবং ফ্রি ফায়ারের আগমন হয় বাংলাদেশে। তার আগে ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি বলতে তেমন কিছু ছিলো না বললেই চলে। বাংলাদেশ, সাউথ এশিয়ার সব দেশেই পাবজি ও ফ্রি ফায়ার রিলেটেড একটা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে। যার সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িত প্রায় ৫০-৬০ হাজার মানুষ। আর বাংলাদেশেই ১০-১৫ হাজার মানুষ সরাসরি পাবজির সঙ্গে যুক্ত থেকে আয় করছেন। বাংলাদেশেই প্রায় ৫-৬ হাজার স্ট্রিমার আছে। যারা প্রতিদিন পাবজি ও ফ্রি ফায়ার স্ট্রিম করে ইউটিউব ফেসবুকে। উপর থেকে নিচে সব ধরণের আয় মিলে মাসে ১ থেকে ২ কোটিরও বেশি। ফেসবুক কর্তৃক বেতনভূক্ত স্ট্রিমাররা প্রতিজন পায় প্রায় ২ লাখ টাকা। আর তাছাড়া ইউটিউব থেকে তোহ আসেই। এবার তোহ ই-স্পোর্টস প্লেয়ারদের কথা। বাংলাদেশের বড় সব টিমের প্রতি জনের বেতন গড় করে হলেও ১০-১৫ হাজার টাকা। আবার টুর্নামেন্ট তো আছেই। বাংলাদেশ রিলেটেড টুর্নামেন্টের প্রাইজপুল ২৬ লাখ টাকা! বছরে ন্যাশনাল ও ইন্টান্যাশনাল টুর্নামেন্ট ১০-১৫টি হয়।পাবজি রিলেটেড স্ট্রিমার, প্রফেশনাল ই-স্পোর্টস প্লেয়ার, কাস্টার এর পাশা পাশি ফ্রিলান্সিং সোশ্যাল মিডিয়া ডিস্কর্ড, ফেসবুক, ইউটিউব ম্যানেজার আছে। তার সাথে গ্রাফিক্স ডিজাইনার , ভিডিও এডিটর, ব্রডকাস্টার তোহ আছেই যারা ফ্রিলান্সিং ইনকাম করে থাকে এই পাব্জি ও ফ্রি ফায়ার কর্তৃক ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি থেকে। নামের আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ। তাই ই-স্পোর্টসকে স্বাগতম টা জানানোটাই প্রয়োজন এবং সঠিক উপায়ে কিভাবে অনলাইন গেম ব্যবহার করা যায় তার দিক নির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন আনাটা সব থেকে বেশি দরকার বলে মনে করি।

তাই সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, প্লিজ সেইভ দ্যা ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি এন্ড আমাদের ডে টু ডে যেই আয় হয় স্ট্রিমার, প্লেয়ার ও ফ্রিলান্সিং ডিজাইনারদের সেটা কেড়ে নিবেন না এভাবে।

এনামুল হক: তিনি ফ্রি ফায়ার পেশার সঙ্গে গত চার বছর ধরে যুক্ত রয়েছেন। এনামুল হক বলেন, ফ্রি ফায়ার কন্ট্রেন্ট থেকেই ফেইসবুক পার্টনারে যুক্ত আছি। এখান থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয় করি। তবে ফ্রি ফায়ারকে আসক্তি হিসেবে নিচ্ছেন না তিনি।

এনামুল হক ফ্রি ফায়ারকে একটি ইলেক্ট্রনিক স্পোর্টস হিসেবে নিয়েছেন। তিনি প্রোফেশোনালভাবে নিয়েছেন। ই-স্পোর্টস থেকে মাসে ৭০ হাজার টাকার বেশি টিমের এবং অফিসিয়াল টুর্নামেন্টে হচ্ছে বাংলাদেশে। সেখান থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা আসতেছে বাংলাদেশে। ডিজিটাল যুগে পাশ্ববর্তী দেশের মতো বাংলাদেশেও ই-স্পোর্টসের সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে ফ্রি ফায়ারের অসংখ্য ইউটিবার আছেন। এখান থেকে মুনাফা পাচ্ছেন। ফ্রি ফায়ার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার আগে সব দিকে বিবেচনা নেয়া দরকার বলে মনে করেন এনামুল হক।

জাকারিয়া ফরিদ বাপ্পি: ফ্রি ফায়ারের সাথে মূলত যুক্ত আছি ৪ বছর থেকে। শুরু থেকেই চেষ্টা করেছিলাম বাংলাদেশের ই-স্পোর্টসকে ইউরোপের দেশগুলোর মত করে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে বা ই-স্পোর্টস জিনিস টা কি সেটার ধারণা দিতে। এছাড়া বিদেশি বেশ কিছু গেমিং ও স্ট্রিমিং অ্যাপ কোম্পানির সাথে কাজ করতেছি। ভারত, মালায়শিয়া ও সিঙ্গাপুর অনেক বড় বড় গেমিং অ্যাপ কোম্পানির সাথে আমরা কাজ করে থাকি। তাদের অ্যাপের প্রমশন থেকে শুরু করে বড় অংকের প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট আমরা করেছি। এগুলো থেকে আমাদের দেশে বিপুল পরিমান স্ট্রিমার, কাস্টাররা আয় করে থাকেন। যেটা ব্যাংকের মাধ্যমে এদেশে আসে যেটার রেমিট্যান্স হিসাব করলে ভালো অর্থ দেশে আসে। ফ্রি ফায়ারকে কেন্দ্র করেই মূলত এই গন্ডি গড়ে উঠেছে৷

জাকারিয়ার ই-স্পোর্টস কোম্পানির জুনে Free Fire Game,LOCO ইন্ডিয়া, Booyah স্ট্রিম অ্যাপ এবং মনিটাইজিং করা গেমিং পেইজ ও গেমিং গ্রুপ থেকে চার হাজার ডলার উপার্জন করে। যেটা বাংলাদেশের টাকায় ৩ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া বাংলালিংক ডিজিটাল গত তিন মাস থেকে আমাদের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে। আমরা যদি বিদেশি অর্থ দেশে এভাবে ঢুকাতে পারি তাহলে আমাদের সাথে সরকারের অনেক লাভ হবে। এছাড়া এটা আমাদের মাত্র শুরু সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশের ই-স্পোর্টস গেমিং সেক্টরে। আর সেটা এগিয়ে নেবার জন্য ফ্রি ফায়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে দেশে।

– জাকারিয়া ফরিদ বাপ্পি ই-স্পোর্টস কোম্পানি ও বেশ কিছু গেমিং গ্রুপ ও আল্কেমিস্টের গেমিং কমিউনিটির এডমিন হিসেবে কাজ করছেন।

আব্দুল জব্বার শাকিল: বাংলাদেশের পাবজি মোবাইলের সর্ববৃহৎ টিমের অধিনায়ক। আমি পাবজি মোবাইল থেকে পাবজি মোবাইলের ওয়ার্ল্ড কাপ দুবাইয়ে অংশগ্রহণ করি। পাবজি মোবাইলের মাধ্যমে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো গেমটি যেন বন্ধ না হয়। এখানে রেমিটেন্স সহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে। আমি একজন স্টিমার হিসেবেও ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে ভালো ইনকাম করি। সুতরাং সরকারের কাছে আকুল আবেদন সরকার যেন এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে।

আমি রেদোয়ান হোসেন সিয়াম: আমি বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পাবজি মোবাইল ই-স্পোর্টস টিম ১৯৫২ দলের দলনেতা। পাবজি মোবাইল আমাদের দেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে গত ২ বছর যাবত। আমি এবং আমার টিমমেটরা এবং অন্য দলগুলো প্রতিমাসে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করে থাকি। সেই সব টুর্নামেন্টের প্রাইজপুল ৩০ লাখের বেশি থাকে। এমন টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে প্রতি মাসে ১/২ বার আয়োজন করা হয়। ফলে আমাদের সামনে থাকে বিপুল পরিমান অর্থ উপার্জনের সুযোগ। এতে করে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা আমারা নিজেরা মিটাতে পারি। মাস শেষে ভালো অংকের টাকা সেভিংস করতে পারি। এতে করে আমাদের আলাদা করে ফ্যামিলিকে চাপ দিতে হয় না। পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারি। এছাড়া আমাদের টিমসহ, আরো অনেক টিমের রয়েছে স্পন্সর। যাদের মধ্যে রয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক ইনভেস্টর। আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস সংস্থা। যারা নিজেদের প্লেয়ারদের ভালো অংকের বেতন ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া স্ট্রিমিং করে টাকা উপার্জনের সুবর্ণ সুযোগ তো আছেই। আমি এবং আমার টিমমেটরা ভালো অংকের বেতন পাই আমাদের সংস্থা থেকে। যা দিয়ে আমরা আমাদের পরিবারকে সাহায্য করতে পারি। এছাড়া আমরা আমাদের বেতন ও টুর্নামেন্টে আয় থেকে সরকারকে কর দিয়ে থাকি। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই সরকারের কাছে আমাদের সকলের অনুরোধ যে, গেমটিকে বন্ধ করে বাংলাদেশের অসহায় বেকার ছেলেমেয়েদের পেটে লাথি মারবেন না। এই গেমটির কারণে আমাদের দেশের বেকারত্বের হার দিন দিন কমে যাচ্ছে। ই-স্পোর্টস ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হওয়ার পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ওয়াসিফ সালমান: পাবজি শুধু মাত্র এখন গেম না, এটি এখন অনেক স্ট্রিমার/কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের আয়ের উৎস। বাংলাদেশে অনেক সেক্টরেই চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন। তাই অনেক বেকার থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু এই গেমের মাধ্যমে পড়ালেখার পাশাপাশি অনেক যুবক ছেলেদের ইনকাম করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ঘরের যুবকেরা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারতেছে। অতএব, এই গেম বন্ধ না করে ফিল্টারিং করলে আমাদের জেনারেশনের জন্য ভালো হবে বলে আমি মনে করি এবং আমরা যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর/স্ট্রিমার আছি, তাদের ইনকামের সোর্সটা বন্ধ হবে না।

আমিনুল রাহাত: এবং আমি পাবজি মোবাইল এর একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড়, এবং প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট খেলছি নিয়মিত। আমার ইন গেম নাম কাপশি (KAPSHI) এবং এই নামেই ইস্পোর্টস এর সবাই আমাকে ভাল চিনেন। বেশ কয়েকটি টিমের হয়ে আমি পাবজি মোবাইল ক্লাব ওপেন, পাবজি মোবাইল প্রো লীগ, পাবজি মোবাইল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ , পাবজি মোবাইল ক্যাম্পাস চ্যাম্পিয়নশিপ ও পাবজি মোবাইল ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ এ অংশগ্রহণ করেছি। এবং বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি ।

ই-স্পোর্টস একটি সম্ভাবনাময় খাত বর্তমানে। পশ্চিমা বিশ্বে বা এশিয়ার কয়েকটি দেশে ই-স্পোর্টস বর্তমানে স্পোর্টস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর বৈশ্বিক বাজারও বিশাল। অন্য দেশের মত আমাদের দেশে অবকাঠামো না থাকলেও আমরা চেষ্টা করছি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট খেলার এবং এটাকে পেশাগতভাবে নেয়ার। এর ভাল সম্ভাবনা দেখছি ও উপকারভোগী আমরা অনেকেই। টেকনোলজির এই যুগে এটা খুবই স্বাভাবিক এবং এটার ভাল দিক গুলো অবশ্যই সমাজের সবাইকে জানতে হবে এবং স্বাগত জানাতে হবে। আমি আশা করি সরকার এবং সমাজ এই খাত নিয়ে ভাববে এবং এর উন্নয়নে কাজ করবে।

নয়ন হোসেন: গেম খেলা কোনো ক্রাইম নয়। গেম যেমন একটি বিনোদনের মাধ্যম, তেমন ক্যারিয়ার গড়ারও একটি অন্যতম পন্থা। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, আমরাও তার সাথে তাল মিলিয়ে গেম খেলেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছি পুরো বিশ্বে। যেখানে অন্য দেশে Esports এর জন্য আলাদা Subject নিয়ে পড়াশোনা করার অপশন আছে, সেখানে বাংলাদেশে এটাকে ব্যান করে দেওয়া মানে গেমিং সেক্টরে অনেক দূর পিছিয়ে যাওয়া। তাই ব্যান না করে ফিল্টারিং করা প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ