বইমেলা বাঙালি জাতিসত্তা দাঁড় করাতে সহায়ক : কবি নুরুল হুদা

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২৩ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২৩

বইমেলাকে বাঙালির প্রাণের মেলা উল্লেখ করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও জাতিসত্তা কবি নুরুল হুদা বলেছেন,বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়। এ মেলা বাঙালি জাতিসত্তা দাঁড় করাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সিলেটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজিত সপ্তদশ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বই অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে উল্লেখ করে কবি নূরুল হদা বলেন, বই সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে মানুষকে বিশুদ্ধ করে তোলে। মানুষ জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের জন্য বইমেলায় ছুটে আসে। বই পড়ায় মানুষকে আগ্রহী করে তোলাকেই বইমেলার আসল উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বইমেলা উৎসব কমিটির সদস্য সচিব প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরীর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেমুসাসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলা একাডেমির ফোকলরবিদ, পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বইমেলা উৎসব কমিটির আহবায়ক সাইফুল করিম চৌধুরী হায়াত এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেমসাস এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু।

এর আগে এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ষোলোদিন ব্যাপী বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গুনীশিল্পী সুষমা দাস। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমরাই একমাত্র জাতি নিজের মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দিয়েছি। পৃথিবীর আর কোনো জাতি নিজের মায়ের ভাষার জন্য রক্ত দেয়নি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও ফোকলরবিদ, ড. আমিনুর রহমান সুলতান বলেন, ‘বইয়ের বিকল্প বই। এটি এমন একটি মাধ্যম যা আমাদের মনকে বিকশিত করে, জ্ঞান সমৃদ্ধ আর হৃদয়কে করে পরিপূর্ণ।’ সভ্যতার ক্রমবিকাশে ও মানুষের চিন্তনের ক্ষেত্রে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আহমেদ নূর বলেন, আলোকিত মানুষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম অনুষঙ্গ বই। বিশেষ করে বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তোলে ধরার ক্ষেত্রে বইমেলা হবে আরও সহায়ক। সুতরাং এই মাসেই উৎসব মুখর পরিবেশে বইমেলায় অংশ নিতে পেরে লেখক-পাঠক সকলেই অন্যরকম পুলক অনুভব করতে পারে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকজন ছাড়াও নবীন ও প্রবীন লেখকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।

এবারের বইমেলাটি সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি দেওয়ান ফরিদ গাজীর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। দরগাগেইটস্থ সংসদ চত্বরে আয়োজিত বইমেলা প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।