জ্যোৎস্নার রাতে ‘থাবাল চোঙবা’য় রঙিন হলো কমলগঞ্জ

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, |                          

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরে দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে মণিপুরি সম্প্রদায়ের উদ্যোগে জ্যোৎস্নালোকিত রাতে নৃত্যের তালে তালে ‘থাবাল চোঙবা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে হাজারো মণিপুরি তরুণ-তরুণী মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ছনগাঁও গ্রামে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ উৎসব।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মণিপুরি তরুণ-তরুণীরা রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয় তুলে ধরেন। ‘ছনগাঁও নিঙোল পিবা’ এ উৎসবের আয়োজন করে।

উৎসবের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে থাকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাঠ, বাঁশ, খড়ের ছাউনি ইত্যাদি সংগ্রহ করে ছোট ছোট ঘর বানানো। এ ঘরেই স্থাপিত হয় শ্রী চৈতন্যদেবের মূর্তি। উৎসবের প্রথম দিন মণিপুরি মেয়েরা ওই ঘরেই শ্রী চৈতন্যকে পূজা দেন। পূজার শেষে আরতি করা হয়। আর তারপরই ঘরটি পুড়িয়ে ফেলা হয়। মূলত লেইশাঙ বলে পরিচিত এ ঘরটিকে পুড়িয়ে বসন্তকে স্বাগত জানান মণিপুরিরা। লেইশাঙয়ের ভস্মকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করেন মণিপুরিরা।

উৎসবের আরেকটি বিশেষ অংশে থাকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল ও ফলমূল সংগ্রহ করা। এসব সংগ্রহ করতে বের হওয়া দুটি দলের পথে দেখা হয়ে গেলে তারা রং খেলায় মেতে ওঠে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ থাবাল চোঙবা।

থাবাল চোঙবা মূলত মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী একটি নৃত্য। রঙিন কাগজ ও সুতা দিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে গোল বৃত্ত তৈরি করে শতাধিক মণিপুরি তরুণ-তরুণী হাতে হাত রেখে থাবাল নৃত্য পরিবেশন করেন। এ উৎসবটি মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হোলি উৎসবেরই মণিপুরি রূপ। তবে অষ্টাদশ শতকের আগ পর্যন্ত এ উৎসবটি শুধু শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনীবার্তাই বয়ে আনত। মূলত মণিপুরিরা বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করলে হোলি উৎসবের সঙ্গে মিশতে শুরু করে য়াওশাঙ ও থাবাল চোঙবা উৎসব।

উৎসবের সঙ্গে জড়িত হামোম সুবল সিংহ ও তম্বিতন দেবী বলেন, মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই হচ্ছে থাবাল চোঙবা। এটি মূলত দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে করা হয়ে থাকে। এতে আমাদের কমিউনিটির তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি ছোট ছোট শিশু এবং বিবাহিত নারীরাও অংশগ্রহণ করে থাকেন।