সন্তানরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হলে আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর হবে–জেলা প্রশাসক

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সিলেট জেলা শাখার আয়োজনে ২০২৫ সালের সাংস্কৃতিক বিভাগের সমাপনী সনদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) নগরীর রিকাবীবাজারস্থ এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রাসেলুর রহমান,কবি ও বাচিক শিল্পী সালেহ আহমদ খসরু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ভূঞা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাচিক শিল্পী নাজমা পারভীন।এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো আবু জাফর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ সারওয়ার আলম বলেন, এই সময়টি তার সারাদিনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সময়। এটি একটি পারফেক্ট জায়গা যেখানে আরও বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি আসতে দেরি হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২ মে সিলেটে আসছেন। তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদী খননকাজের সূচনা করবেন, সেই কেন্দ্রিক ব্যস্ততার কারণে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম,অভিভাবকদের বিশেষ করে মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,মায়েরাই সন্তানদের ক্লাসে নিয়ে আসেন এবং ক্লাস শেষে আবার সন্তানদের নিয়ে যান।তিনি বলেন,আমি আশা করছি,আমাদের সন্তানেরা মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে,আলোকিত মানুষ হবে,নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হবে,যাতে করে আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই অডিটোরিয়ামে ২২টি এসি থাকলেও সবকটিই নষ্ট। তবে খুশির খবর হলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি টাকার বাজেট পেয়ে টেন্ডার করা হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তিনি সকল অভিভাবককে ধন্যবাদ জানান যারা এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও শিশুদের নিয়ে আসছেন এবং শিশু একাডেমির সকল কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান যারা এই শিশুদের গড়ে তুলছেন। আজ যারা সনদ পেয়েছেন তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন তিনি।

স্থান সংকটের বিষয়ে মোঃ সারওয়ার আলম জানান, খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসমানী মেডিকেলের পাশে মহিলা ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র নামে একটি ভবন আছে যা তেমন একটা ব্যবহার হয় না এবং শামসুদ্দিন মেডিকেলের পাশে ৮ তলা একটি ভবন আছে। আগামী ২ তারিখের পরে যে কোনো দিন বসে আলোচনার মাধ্যমে এই দুইটি ভবনের মধ্যে যেকোনো একটিতে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, সিলেটের অধীনে তিন বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি বিভিন্ন কোর্স সম্পন্নকারী মোট ৩৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। এ সময় নাচ, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ সময় শিশু শিক্ষার্থীরাসহ সুধীমন্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।