শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক শিক্ষায় সিলেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, এক সময় সিলেট ছিল উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। আসাম প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) ছিলেন সিলেটেরই কৃতি সন্তান। পাক-ভারত উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জন্ম এই অঞ্চলে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে সিলেট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমাদের শিক্ষায় সিলেটের সেই হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দক্ষিণ সুরমার লাউয়াইয়ে নূরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন এবং ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “অতীতে দীর্ঘ সময় সিলেটের একজন ব্যক্তি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বরং গত ১৭ বছরে গণহারে পাসের সংস্কৃতি চালু করে শিক্ষা ব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার।”

নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যয় অবৈতনিক ঘোষণা করে নারীশিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নারীশিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিক এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, নিজেদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব তোমাদের হাতেই। তাই তোমাদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।”

কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মিফতাহুল হোসেন সুইট, সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, লাউয়াই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত আহমদ, গভর্নিং বডির সদস্য রাসেল মাহবুব, ডা. এনামুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল বায়েছ, মো. নুরুল ইসলাম এবং রুমানা সুলতানা।