চিত্রকর্ম সৃষ্টিশীল ও মানবিক কাজকে উৎসাহিত করে -ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ১৩ ঘন্টা আগে

সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, চিত্রকর্ম মানুষকে সৃষ্টিশীল ও মানবিক কাজকে উৎসাহিত করে। আজকের চিত্রকর্মগুলো দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। এধরণের অসাধারণ শিল্পকর্ম বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।তিনি সৃষ্টিশীল প্রতিভা ও মেধাকে শাণিত করতে চিত্রকর্মে তরুণদের আরো বেশি এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি সিলেটে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী মধুবনী চিত্রকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির রূপ অন্বেষণ’ গ্রুপের আয়োজনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,সিলেটের প্রবীণ চিত্রশিল্পী হ্যারল্ড রশিদ চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল এবং লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে জাদু।

প্রদর্শনীতে মধুবনী চিত্রকলার বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম তুলে ধরা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পধারার নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য দেখতে দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে উপস্থিত হন শিল্পপ্রেমী ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রদর্শনীতে ২৯ জন শিল্পীর ৩১ টি শিল্পকর্ম স্থান পায়।

আয়োজকরা জানান, মধুবনী চিত্রকলার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য সবার কাছে তুলে ধরা এবং শিল্পচর্চায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।প্রদর্শনী ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। বিভিন্ন শিল্পকর্ম ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আগত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।

মধুবনী চিত্রকলা বা মিথিলা চিত্রকলা ভারতের বিহার ও নেপালের মিথিলা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। উজ্জ্বল রং, সূক্ষ্ম রেখা এবং প্রকৃতি ও পৌরাণিক কাহিনির নানা প্রতীকের ব্যবহারের জন্য এই শিল্পধারা বিশেষভাবে পরিচিত।এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ফুল, লতা-পাতা ও প্রকৃতির নানা দৃশ্য,মাছ, পাখি ও প্রাণীর প্রতীকী ব্যবহার,ময়ূর ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী মোটিফ,রামায়ণ, কৃষ্ণলীলা ও হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি
লাল, হলুদ, নীল, সবুজসহ উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার
রেখা ও জ্যামিতিক নকশায় পুরো পটভূমি পূরণ করার প্রবণতা।ঐতিহ্যগতভাবে বাড়ির দেয়াল ও মেঝেতে এই চিত্র আঁকা হলেও বর্তমানে কাগজ, কাপড়, ক্যানভাস ও বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে মধুবনী চিত্রকলা তৈরি করা হয়।