অনেকদিন প্রবাসে থেকে দেশে এসেছেন প্রিয় ভাতিজা রুহেল।দেশে এসে সবাই কে ঘোষনা দিলেন চল সবাই কোন এক জায়গায় বেড়াতে যাই। রুহেল এর কথা শুনে সবার মনে আনন্দ জাগল। পছন্দসই অনেক জায়গার নাম চলে আসলো বেড়াতে। সর্ব শেষে সিলেটের দর্শণীয় স্থান ভোলাগঞ্চের সাদা পাথর আনন্দ ভ্রমণের জন্য সঠিক জায়গা নির্ধারণ হল। এবং বেড়ানোর তারিখ নির্ধারিত হল ২৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ শুক্রবার। ভোর রাত থেকে মুঠোফোনে একে অপরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি মেসেনজার গ্রুপে ও টন টন শব্দ বাজছে।এক কথায় সাদাপাথর ভ্রমণের আনন্দে নীর্ঘুম রাত অনেকে কেটেছেন। অভিযাত্রী দলের বেশীরভাগ সদস্য সাদাপাথর ঘুরে দেখেছেন কিন্তু সব এক সাথে যাবার আনন্দটা একটু আলাদা।শুক্রবার সকাল হল নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা বাড়ির সামনে গাড়ি আসলো রাহিম দাড়িয়ে থাকা গাড়ির ছবি তুলে সবার মেসেনজারে নক দিলেন তাড়াতাড়ি গাড়িতে আসার জন্য মেসেজ পেয়ে আমি বাসা থেকে বের হলাম এরপর ইসমাম, ইফতি,বাসা থেকে বের হলাম গাড়ির দিকে প্রথমেই দেখাহল ভাগনা আলামিন,ভাতিজা হান্নান ও আবুল হাসনাতের সাথে। এক এক করে পরবর্তীতে রুহেল, অতপর সবার সাথে।ভাতিজা লাবলু নির্দেশ দিলেন আলমগীর চাচা গাড়িতে প্রথম উঠবেন এবং ভিডিও রেকর্ড অন করে এক এক করে ৩০ জন বাসগাড়িতে উঠলাম,আরো কয়েকজন মোটর সাইকেলে করে রওনা দিলেন ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের দিকে। আকাঁ বাকা রাস্তায় ড্রাইভার ইউসুফ ভাই আল্লাহর নাম নিয়ে বাসগাড়ি নিয়ে ছুঠলেন গন্তব্য সাদাপাথর। গাড়িতে বসা সবার জন্য রাহিম মূখরোচক খাবার মধু পরিবেশন করেন। অর্ধেক রাস্তায় যাত্রা বিরতি করে হাইটেক পার্কে গ্রুপ ছবি তুলা হয়। গ্রুপ ছবি তুলেন পাপলু ও জুবায়ের। আর হাইটেক পার্কে সেলফি তুলেন রাহিম। অল্প সময়ের মধ্যে আমি পানের আর ভাতিজা মুজাহিদ চায়ের তৃপ্তি মিঠালাম। গাড়িতে আবার উঠার পর ইশমাম এক এক করে গুনে কনফার্ম করলেন সবাই গাড়িত এসেছেন। তার পর রুহেল ঘোষনার করলেন পুনরায় গাড়ি ছাড়তে। গাড়ি ছুঠলো সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে গাড়ির কাচের জানালা খুলে চারপাশের সবুজ পাহাড়, স্বচ্ছ নীল জল, প্রকৃতির দৃশ্য মন জুড়িয়ে দেয়েছিল সবাইকে। ড্রাইভার ইউসুফ ভাই সর্তকতার সহিত গাড়ি চালিয়ে আল্লাহর রহমতে ভোলাগঞ্জ গাড়ি পার্কিংয়ে পৌঁছালে এক এক করে সবাই গাড়ি থেকে নেমে জুম্মার নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিলাম। নৌকার ঘাটে গিয়ে নৌকা রিজার্ভ করে প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে শীতল পরশ হিমেল জলের উপর ৩ টি নৌকায় বসে মসজিদের গন্তব্য পৌছলাম সবাই।স্থানীয় মসজিদে ইমামের পিছনে দাড়িয়ে সবাই পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায় করলাম। নামাজ পড়া শেষে আবারো ইঞ্জিন নৌকায় বসে পর্যটক স্পটের প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ধলাই নদের বুকে স্বচ্ছ জল আর সাদা পাথরের মুগ্ধতায় মন প্রাণ ভরে গেল আমাদের সবার। অকপটে সৌন্দর্য অবলোকন করলাম। মূল স্পটে পৌছে শুরু হল মহাআনন্দ। স্রোতে বহমান শীতল জল আর পাথরের সন্দিকনে ধলাই নদীতে গোসল করতে নামেন সবাই। কখন যে পাহাড়ি রোদ ধলাই নদীর কোলে আশ্রয় নিয়েছে টেরই পাইনি। সাদা পাথরের মূল স্পটে যেতে প্রথমে নৌকা, পরে তপ্ত বালি ও বোল্ডারে পথ পেরিয়ে স্বচ্ছ জলের স্রোতধারার স্পর্শ পেয়ে তৃপ্ত হই। অন্ধকার জেঁকে বসার আগেই খাবার খেয়ে শেষে গাড়িতে উঠে সিলেট শহরের দিকে আসার মুহূর্তে রুহেল এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান সবাই।
পরিশেষে যে কথাটি বলা বাহুল্য সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো অত্যন্ত দর্শনীয় স্থান। সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে পর্যটকদের যে ভীড় হয় বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।২৪ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি (শুক্রবার ) ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আনন্দ ভ্রমনে সঙ্গী ছিলেন যারা – আমি মোঃ আলমগীর আলম, মো:আল-রিয়াদ, জুবায়ের,লাভলু আহমদ, রুহেল, সুহেল, পারভেজ, জুয়েল, হান্নান,লিটন, মিজান, ফরহাদ,মিলাদ, আলামিন, তানজিল,মুজাহিদ, ,রাহিম, ইশমাম,শাহরিয়ার,রুমান, আবুল হাসনাত, রুমান নোমান,সুহেদ, মিলাদ, ইফতি, সাদিক, তাহের, নাঈম,সাইম,আরাফাত।
লেখক; সাংবাদিক
