হৃদরোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ৪৫ minutes ago

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, পাশাপাশি হৃদরোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে। দেশে বর্তমানে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে হৃদরোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভা ও গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও মানসিক চাপের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। হৃদরোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপন জরুরি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মানুষের শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল ও কর্মক্ষম অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অসচেতনতার কারণে হৃদরোগ এখন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। হৃদরোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে হৃদরোগের কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।

তিনি বলেন, হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে হৃদবান্ধব খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে হবে।

সিসিক প্রশাসক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রতিষ্ঠায় জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। হৃদরোগের চিকিৎসাসেবায় প্রতিষ্ঠানটি সিলেটসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জন্য ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের উদ্যোগ ও সহযোগিতার কারণেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথ সুগম হয়েছিল।

এর আগে হৃদরোগ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর। যুগ্ম সম্পাদক আবু তালেব মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে জীবন রক্ষায় জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি সিপিআর বিষয়ে বক্তব্য দেন সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা তাজিন।

বাইপাস সার্জারি (সিএবিজি) বিষয়ে বক্তব্য দেন কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান ইফতেখার রাজা চৌধুরী। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪৯ জন হৃদরোগীর বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর বলেন, একসময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ হিসেবে মনে করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন বয়সী মানুষই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তবে জীবনযাপন ও অসচেতনতার কারণেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ধূমপানসহ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিহার করা জরুরি। হৃদরোগের সামান্য লক্ষণও অবহেলা করা উচিত নয়। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি জানান, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে দক্ষ কার্ডিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি, প্রাইমারি পিসিআই, পার্মানেন্ট পেসমেকার, টেম্পোরারি পেসমেকারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার হৃদরোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

‘বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬’-এর প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আলতাফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ মতিন, কার্যকরী কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী এবং লিভার ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকতুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের পাবলিসিটি সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সোশ্যাল সেক্রেটারি আব্দুল মালিক জাকা, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন সেক্রেটারি এস আই আজাদ আলী, হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আব্দুল মুনিম চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক ডা. আলা উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর অংশ হিসেবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত হৃদরোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। এ কর্মসূচিতে ৫৮ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সিলেট ইউনিট, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড, এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।