ব্রাজিলে সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে ২২৮৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, |                          

কোভিড-১৯ মহামারীতে বিপর্যস্ত ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা দাপট দেখালেও একদিনে এত সংখ্যক মৃত্যু হয়নি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে বুধবারই ২২৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিন ৭৯ হাজার ৮৭৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে, এটিও একটি রেকর্ড। একই দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণের ঘটনা ঘটল দেশটিতে।

২৪ ঘণ্টায় ২২৮৬ জন নিয়ে দেশটিতে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন করোনায় মারা গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে করোনায়। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এর চেয়ে বেশি অর্থাৎ পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ১৯১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় ব্রাজিলে মৃত্যু ও আক্রান্ত বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রাজিলের করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রশাসনকে দায়ী করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা। বলসোনারো প্রশাসনের ‘পাগলামি’ সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে করোনার প্রকোপ বেড়েছে বলে মত তার। মাস খানেকের মধ্যে গতকাল বুধবারই বলসোনারোকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার পি১ নামক একটি ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে। আমাজনঘেষা মানাউস শহরে প্রথম ধরা পড়ে এটি।

করোনার সংক্রমণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে, ব্রাজিলের স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ফিয়োক্রুজ।

রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় আর কোনো আইসিইউ শয্যা খালি নেই। সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেরিওসহ ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ৯০ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় করোনায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া পোর্ট অ্যালেগ্রে ও ক্যাম্পো গ্রান্দে অঙ্গরাজ্যে আইসিইউ শয্যার চেয়ে গুরুতর রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে।

করোনার মৃত্যু ও আক্রান্তের তথ্য রাখা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারস বলছে, ব্রাজিলে বুধবার পর্যন্ত এক কোটি ১২ লাখ পাঁচ হাজার ৯৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।