সর্বশেষ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পেজ মুছে দিয়েছে ফেসবুক

  |  ১৭:৪০, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মূল ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, রোববার কর্তৃপক্ষ ‘ট্রু নিউজ’ নামে ওই পেজটি বন্ধ করে দেয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, কবি, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামরিক শাসন অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। অভ্যুত্থানবিরোধীরা সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী নেত্রী অং সান সু চি’র মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছেন। এর আগে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়। আটক করা হয় শীর্ষস্থানীয় এক অভিনেতাকেও।

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ট্রু নিউজ ইনফরমেশনটি টিম’ পেজটি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করার জন্য ডাউন করা হয়েছে। পেজটির মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেয়া হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী টাটমাডাও নামে পরিচিত। রোববার থেকে এর ‘ট্রু নিউজ’ পেজটি আর ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি দেশটির সেনা মুখপাত্র।

প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট সাম্প্রতিক বছরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত শত শত পেজ নিষিদ্ধ করে। ওইসব পেজে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করা হচ্ছিল। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রেহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমারে ঘৃণাবাদী প্রচারণা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক গত কয়েক বছর ধরেই দেশটির নাগরিক অধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেছে। ২০১৮ সালে ফেসবুক মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ছাড়াও আরো ১৯ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করে। এছাড়া সমন্বিতভাবে ঘৃণা ছড়ানোর দায়ে সেনা সদস্যদের পরিচালিত শত শত পেজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ