সর্বশেষ
 গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিতের আহবান জাতিসংঘের প্রথমবারের মতো সুচিকে আদালতে হাজির দেখানো হলো মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে কূটনীতিকদের হৈ চৈ করার কিছু নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির ৩ বছরের জেল পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের শাস্তি চান খাসোগির বাগদত্তা ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮৫ লেখক মুশতাকের মৃত্যু: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা, গোটা দেশ অবরোধের হুমকি মুখোমুখি অবস্থানে তুরস্ক-ইরান, পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত তলব

সু চিসহ সব রাজবন্দির মুক্তি চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

  |  ১৫:২৫, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিসহ গ্রেফতার সব নেতার মুক্তির দাবিও জানিয়েছে দেশটি। খবর আলজাজিরার।

৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফলকে সম্মান জানাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা, অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য প্রবীণ ব্যক্তিদের গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এ বিষয়ে বিফ্র করেছেন।

এনএলডির মুখপাত্র মিও নয়েন্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও দলের অন্যান্য নেতাকে সোমবার ভোরে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এনএলডির মুখপাত্র মিও নয়েন্ট নিজেও গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এনএলডির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হান থার মিন্টকেও আটক করা হয়েছে। সৈন্যরা দেশের বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরণকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ সম্পর্কে বিফ্র করেছেন।

সাধারণ নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে বা মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা দেওয়ার যে কোনো প্রয়াসের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে অস্ট্রেলিয়াও মিয়ানমারে সেনা অভ্যত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ম্যারিসে পেইনও বলেছেন, এই গ্রেফতারের নিন্দা জানাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তারা চান মিয়ানমারে আইনের শাসন মর্যাদা পাবে, আইনসম্মত পন্থায় বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং সু চিসহ আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

সু চিসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটকের কারণ হিসেবে সেনাবাহিনী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘কারচুপির অভিযোগকে’ সামনে এনেছে।

গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি ভূমিধস জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২ আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬ আসন।

কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দলটি নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। তার পর থেকেই দেশটিতে ফের সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেটিই আজ সত্যি প্রমাণ হল।
মিয়ানমার দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ২০০৮ সালে দেশটি গণতন্ত্রের পথে ধাবিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অধীনে ছিল। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণে মূল ভূমিকা রাখেন দেশটির স্বাধীনতার অবিসংবাদী নেতা অং সান। পরবর্তীতে তার মেয়ে অং সান সু চি ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি দল গঠন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূল ভূমিকা রাখেন। এ কারণে তাকে কয়েক বছর গৃহবন্দিও থাকতে হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ