SylhetNewsWorld | করোনা রোগীর চাপে সাধারণ রোগীরা দিশেহারা - SylhetNewsWorld
সর্বশেষ

করোনা রোগীর চাপে সাধারণ রোগীরা দিশেহারা

  |  ১৬:২৬, জুলাই ৩১, ২০২১

ইয়াসিনুল মিজি (৭০)। বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। ১০ দিন আগে তার জ্বর হয়। তখন তার টাইফয়েড ধরা পড়ে। জ্বর না কমায় এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় রোববার মতলব সরকারি হাসপাতালে তার করোনা পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোথাও তাকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। সব হাসপাতালই তাকে ঢাকায় রেফার করে।

শুক্রবার সকালে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে মিজিকে স্বজনরা নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে তারা দেখেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি নোটিশ। সেখানে লেখা-‘কোভিড-১৯ বেড খালি নাই। পুরুষ বেড খালি নাই। আইসিইউ বেড খালি নাই। এইচডিইউ বেড খালি নাই।’ জরুরি বিভাগের কর্মরতরা জানান, রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করানো যাবে না। রোগীর সমস্যা হতে পারে। মিজির স্বজনরা জানান, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। অন্য কোথাও যেতে চাই না। এখানেই চিকিৎসা দেন। এভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে ভর্তি করানো হয়।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তরা পাচ্ছেন না যথাযথ চিকিৎসা। তাদের ঘুরতে হচ্ছে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। এতে দিশেহারা অবস্থা রোগী ও স্বজনদের। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিক রোগ থাকায় রোগীদের বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হচ্ছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে সিট ফাঁকা নেই। এ কারণে রোগী ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে ওমর ফারুক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতেই মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে চিকিৎসা হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, একটি মোটরসাইকেল ছিল। সেটি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমার কাছে আর একটি টাকাও নেই।

ওমর ফারুকের এক স্বজন বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছি। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় বেসরকারি মক্কা-মদিনা হাসপাতালে হালকা চিকিৎসা করানো হয়। সেখান থেকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়। আবার কুমিল্লা থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নিচতলায় বিমূঢ় অবস্থায় বসেছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা লিমা আক্তার। অনেক ছোটাছুটির পর শুক্রবার সকালে জানতে পারেন তিনি করোনা পজিটিভ। তার স্বামী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমরা প্রথমে জরুরি বিভাগে আসি। সেখান থেকে পাঠানো হয় তৃতীয়তলার গাইনি বিভাগে। গাইনি বিভাগ থেকে বলা হয়, সেখানে এ রোগী রাখা যাবে না। তাকে আইসিইউতে রাখতে হবে। পরে আবার জরুরি বিভাগে আসি। সেখানে বলা হয়, তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। রাতে পরীক্ষা হবে না। সকালে নিয়ে আসেন। করোনা পরীক্ষায় তার পজিটিভ ধরা পড়ে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। তাই বসে আছি।

টিউমারে আক্রান্ত মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শাহিনুর আক্তারও আছেন দিশেহারা অবস্থায়। তিনি বলেন, এখন আমাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ১ আগস্ট থেকে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হয়ে যাবে। তখন আবার এ হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যেতে হবে। এ কারণে বুঝতে পারছি না-এখন এখানে ভর্তি হব কিনা।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, যে কোনো একজন রোগীর একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে কখনো প্রয়োজনে অর্থোপেডিক্সে রেফার করি, প্রয়োজনে কিডনি কনসালটেশন করি। এগুলো দরকার হতেই পারে।

শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, করোনা ইউনিটে সিট না থাকায় ভর্তি হতে না পেরে অনেক রোগী ফেরত যাচ্ছেন। অন্য হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা দিলেও সেখানে ভর্তি হতে পারবেন কিনা তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এছাড়া করোনা রোগীদের চাপের কারণে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিতে পড়ার চিত্র চোখে পড়েছে। শয্যা সংকটে বিষ খাওয়াসহ সংকটাপন্ন বেশকিছু রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ