পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন, নেই কোনো আইনি জটিলতা

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

নগরীর সুবিদ বাজারের পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী।এসময় তার মা বুলবুল নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি পল্লবী সেন্টারে নেই কোন আইনী জটিলতা। সেন্টার ভাড়া নিতে কোনো সমস্যাও নেই।এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠানাদি হচ্ছে। তিনি বলেন,বাবার অসিয়ত এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার মা এটি ভোগ করছেন এবং তার দখলেও আছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,সম্প্রতি আমার ভাই কানাডা প্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও বোন আমেরিকা প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত মিথ্যা তথ্য ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ আমি জানাচ্ছি। তারা গণমাধ্যমে ভূল তথ্য প্রচার করে মুলত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। তিনি গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এহসানুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

বুলবুল নাহার চৌধুরী ও মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী
​সংবাদ সম্মেলনে জানান, মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরী গত ২৮/১১/২০১০ তারিখে একটি রেজিস্টার্ড দলিল (নং-৭১/২০১০) সম্পাদন করে যানউক্ত দলিল অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর পর নালিশী সম্পত্তি ভোগদখলের পূর্ণ অধিকার তাঁর স্ত্রী বুলবুল নাহার চৌধুরী দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিন ভাইবোনের মধ্যে বাঁটোয়ারার স্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারিত থাকে২০২১ সালে এনামুল ইসলামের মৃত্যুর পর সন্তানরা এই দলিলের বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

২০২২ সালে দেশে একটি বাঁটোয়ারা দলিল (নং-৩৬২৪/২০২২) সম্পাদন করা হলেও পরবর্তীতে ২০১০ সালের মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি উত্তোলনের পর মা বুলবুল নাহার চৌধুরী ২০২২ সালের বাঁটোয়ারা দলিল বাতিলের জন্য ‘স্বত্ব মামলা নং-৮৭/২০২৫’ দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

তিনি আরও বলেন,​উক্ত মামলার ওপর শুনানিশেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ একাধিক দেওয়ানি রিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন ​সিভিল রিভিশন নং- ৩৫৬৮/২০২৫ (০১/০৯/২০২৫): নালিশী সম্পত্তিতে মায়ের পক্ষে দখলের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ।

​সিভিল রিভিশন নং- ৪৭৩৮/২০২৫ (১২/১১/২০২৫): বিতর্কিত বাঁটোয়ারা দলিল (নং-৩৬২৪/২০২২)-এর সকল কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা।

​সিভিল রিভিশন নং- ৫৩০৯/২০২৫ (০৯/১২/২০২৫): মূল মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তি হস্তান্তরে জেলা রেজিস্টার, সাব-রেজিস্টার ও এসি ল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি।

​তিনি আরও জানান,হাইকোর্টের এসব আদেশ এবং বাবার মূল দলিল অমান্য করে এহসানুল ও তাজিন বেআইনিভাবে ৭ জন ব্যক্তির নামে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা প্রদান করেছেন, যা আদালতের স্পষ্ট অবমাননা।

ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করা হয় যে, শরীয়াহ আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ভাড়ার অংশ এহসানুল ইসলামকে নিয়মিত দেওয়া হতোএহসানুল ইসলাম নিজেই স্বত্ব মামলায় (০৭/০৫/২০২৬) রিসিভারশিপের আবেদনে তাঁর আই এফ আই সি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

​পরবর্তীতে এহসানুল ও তাজিন বহিরাগত ব্যক্তি আব্দুর কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান শিবলীর কাছে নোটারাইজড আমমোক্তারনামার মাধ্যমে সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিলে মা ক্ষুব্ধ হয়ে আয়ের অংশ দেওয়া বন্ধ করেন।

এর জের ধরে হাবিবুর রহমান শিবলীকে ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘ ৪৮ বছরের পুরোনো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি সিআর মামলা (নং-৯৪৭/২০২৬, কোতোয়ালি) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে পিবিআই (PBI) এখন ও তদন্ত করছেন।

​কোভিডের সময়ে এহসানুল ও তাজিন বিদেশে অবস্থান করায় সবার সম্মতিতে ব্র্যাক ব্যাংক (সিলেট শাখা)এর ভাড়া মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তিন ভাইবোনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অথরাইজেশন লেটার জমা দেওয়া হয়।

​২০২১ সালে দেশে অবস্থানকালে বা পরবর্তী সময়ে এহসানুল ইসলাম কখনো এই অথরাইজেশন লেটার জাল বলে দাবি করেননি।

এমনকি ০৮/১২/২০২৫ তারিখে উকিল নোটিশ পাঠালেও জালিয়াতির কোনো উল্লেখ ছিল না।সম্প্রতি সম্পত্তি থেকে আয় বন্ধ হওয়ায় তিনি ভিত্তিহীনভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির দাবি তুলছেন। ব্যাংকের সমস্ত টাকা শুরু থেকেই নিয়ম মেনে মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আসছে।​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তদন্তের সুবিধার্থে মোবাইল কল লগ ও সঠিক তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এহসানুল ইসলাম ও তাজিন ইসলাম আমার বাবার সম্পাদিত দলিল মানেন না।নালিশী সম্পত্তির উপর তাদের আপন মায়ের অধিকার মানেন না।সর্বোপরি নালিশী সম্পত্তি নিয়া মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের আদেশেরও তোয়াক্কাও করেননা।তারা শুধু বাটোয়ারা দলিল মানেন।তিনি বলেন,আমি আমার বাবার অসিয়ত রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ আইনী লড়াই চালিয়ে যাব।পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায আইননানুগ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব।তিনি এহসানুল ইসলাম ও তাজিন ইসলাম কে উদ্দেশ্য করে বলেন,আইনগতভাবে এখনোও তারা উত্তরাধিকারী হননি।যখন হবেন তখন তারা তাদের ন্যায্য সম্পত্তি পাবেন।

বুলবুল নাহার চৌধুরী বলেন,আমি জীবিত থাকতে পল্লবী সেন্টার দখল কিংবা বিক্রি করতে দেব না।আমার স্বামীর কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল এটা বিক্রি করা যাবে না।তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এটি বিক্রি বা দখল করতে চাইলে তাকে আগে লাশ হতে হবে।তিনি আরো বলেন,
পলবী সেন্টার আমার আমার স্বামীর সম্পদ। আমাদের সন্তান আমি জীবিত থাকতে আমি কাউকে এটার ক্ষতি করতে দিব না।

​সংবাদ সম্মেলনে তারা আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।