দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় বেসরকারি সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: সিসিক প্রশাসক

লেখক: সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) সিলেট নগরীর প্রান্তিক ও বস্তিবাসী জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সাথে তিনি প্রকল্পের কাজের পরিধি ও ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনা করে নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার জন্য এফআইভিডিবি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার (১৮ মে) সকালে নগর ভবন সভাকক্ষে এফআইভিডিবির ‘ইয়াং পিপল বিল্ডিং আরবান রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং ইউনাইটেড নেশনস ডেমোক্রেসি ফান্ড (ইউএনডিএফ)-এর অর্থায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে অনুষ্ঠিত এক উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুধু একটি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। এটি একটি সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। তরুণদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা সৃষ্টি, স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নগর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নগর এলাকায় যে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেশের সবগুলো সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে সময়ের চাহিদায় আমাদের এই কার্যক্রমকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। বর্জ্যকে যদি আমরা দ্রুত সঠিক প্রক্রিয়ায় সম্পদে রূপান্তরিত করতে না পারি, তবে ভবিষ্যতে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।” তিনি এই ধরনের দুর্যোগ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রকল্পে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস এবং বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল ফজল খোকন। সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এ পর্যন্ত সম্পাদিত কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এফআইভিডিবির প্রকল্প সমন্বয়কারী আবুবকর শিকদার।

প্রসঙ্গত, ইউনাইটেড নেশনস ডেমোক্রেসি ফান্ড (ইউএনডিএফ)-এর অর্থায়নে এবং এফআইভিডিবির বাস্তবায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডে (৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড) প্রকল্পটির কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ ও সচেতন করে তোলার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগরীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি জলবায়ু ও দুর্যোগসংক্রান্ত সেবাগুলো সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে। পাশাপাশি দুর্যোগজনিত ঝুঁকি প্রশমনে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বস্তিবাসী ও শহুরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আবুবকর শিকদার জানান, প্রকল্পটির আওতায় ইতোমধ্যে সিসিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে অবহিতকরণ সভা এবং ১০টি ওয়ার্ডে ৫০টি কমিউনিটি মবিলাইজেশন সভা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১৮-৩৫ বছর বয়সী ১৩৪৯ জন যুবক-যুবতীর তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৫০টি ‘ইয়ুথ অ্যাকশন গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। পিয়ার লিডারদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ মডিউল, পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ জন পিয়ার লিডারকে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), ৫০টি ইয়ুথ অ্যাকশন গ্রুপকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, ১০ হাজার কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহ এবং ১০০ জন পিয়ার লিডারকে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহারের ওপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৫০টি ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সিসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।