সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, এক সময় সিলেট নগরে পর্যাপ্ত খালি জায়গা, খেলাধুলার মাঠ ও বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের ফলে এখন সবকিছু সংকুচিত হয়ে এসেছে। ফলে শিশু-কিশোররা অতিরিক্ত ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝুঁকে পড়ছে, যার নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে। এই পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে তাদের বেশি করে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) সিলেটে শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা ওয়েবসাইট ‘হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ আয়োজিত এক ফলো-আপ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
’শিশুর চোখে শিশুর গল্প’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নগরের একটি হোটেলের মিলনায়তনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর যৌথ অংশীদারিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “সিলেট নগরে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং বিশেষ করে প্রবীণদের নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা করা জরুরি। আমরা ইতিমধ্যে সেই উদ্যোগ নিয়েছি। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলেই নগরে নতুন খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হবে।”
তরুণদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক শিশু-কিশোরদের সঠিক পথ দেখাতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহ-ফিচার সম্পাদক হাসান বিপুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিলেট প্রতিনিধি বাপ্পা মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাবিপ্রবি প্রতিনিধি নুর আলম। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এই ফলো-আপ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মৌলিক সাংবাদিকতার ধারণা, সংবাদ ও ফিচার লিখন, শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার চ্যালেঞ্জ ও সমাধান, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট চেকিং), শিশু অধিকার, প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং মোবাইল জার্নালিজমের (মোবাইল ফোনে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি) ওপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ফটোগ্রাফি নিয়ে ক্ষুদে সাংবাদিকদের ধারণা দেন প্রথম আলো’র ফটোসাংবাদিক আনিস মাহমুদ।
কর্মশালায় সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
